Home arrow Message arrow RDCD TWO YEARS PROGRESS
RDCD TWO YEARS PROGRESS

বর্তমান মহাজোট সরকারের দু বছর এক নজরে......

ল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাঃ

 

ল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগ অন্যতম একটি এমটিবিএফভুক্ত বিভাগ। এমটিবিএফ কাঠামোর মধ্যে বিভাগের পরিকল্পনা তৈরি হয়ে থাকে। চলমান ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাটি মূলত বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহারকে মূল ফোকাসে এনে প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এমটিবিএফ জাতীয় ল্লী উন্নয়ন নীতিকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এমটিবিএফ কাঠামো সমন্বয় আশ্রয় করে ইস্তেহার অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এমটিবিএফ- মোট ৫টি কৌশলগত উদ্দেশ্য চিহ্নিত করা হলেও বিভাগের চলমান কর্মপরিকল্পনায় মোট ১০টি কৌশলগত উদ্দেশ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। কৌশলগত উদ্দেশ্যগুলো হলঃ

.  ল্লী এলাকার দরিদ্র অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্ন-কর্মসংস্থান সৃষ্টি

.  পশ্চাদপদ এলাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন

.  ল্লী এলাকার কর্মসংস্থান সৃজনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি

.  প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ল্লী অঞ্চলে দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি

.  গবেষণা প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে ল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমাধান ফলাফল সম্প্রসারণ

.  জাতীয় ল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন

.  অফিসের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ

.  ক্ষুদ্র ঋণ উপকারভোগীদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য বাজার-সংযোগ সৃষ্টি

.  খাদ্যপুষ্টির চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে দুগ্ধ উৎপাদন

১০.  সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ।

 

বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। ছাড়া আমাদের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে ল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগ নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। ল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগ মূলত ল্লী উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, ল্লী জনগণের আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মানব সম্পদ উন্নয়ন ল্লী উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রায়োগিক গবেষণাসহ বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ সম্প্রসারণ করে থাকে।

 

বর্তমান সরকার দারিদ্র্য বিমোচনের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে এবং সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী ৫টি অগ্রাধিকারভুক্ত বিষয়ের মধ্যে এটি অন্যতম। ২০১৩ সালের মধ্যে দারিদ্র্য চরম দারিদ্রে্যর হার যথাক্রমে ২৫ ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগ স্বল্প মধ্যমেয়াদি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে দ্বৈততা রোধসহ সমস্ত কার্যক্রমকে সমন্বিত এবং সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনার আলোকে বাস্তবায়নের জন্য পূর্ববর্তী আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে জাতীয় ল্লী উন্নয়ন নীতি-২০০১ প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে এই নীতিমালা বাস্তবায়ন কার্যক্রম উপেক্ষিত ছিল। বর্তমান সরকার কর্তৃক এই নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে ল্লী উন্নয়ন দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে কার্যক্রম বিস্তৃত হচ্ছে।

 

সারা বিশেব সমবায় পদ্ধতি অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পন্থা হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের সংবিধানে সমবায়কে সম্পদ মালিকানার ২য় খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সমবায় কর্মকান্ডে গতিশীলতা আনয়ন, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কারমূলক এবং উন্নয়নধর্মী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

 

‘‘মিল্কভিটা’’  

বিগত সরকারের আমলে মিল্কভিটার কার্যক্রম আশানুরূপ না হলেও বর্তমান সরকারের আমলে মিল্ক ভিটা দুগ্ধ ক্রয়-বিক্রয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে ১৫.৭৫ কোটি এবং ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ১৫.৮১ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া মিল্ক ই্উনিয়নের web site open করা হয়েছে। টুঙ্গীপাড়া, বাবুগঞ্জ, শ্রীপুর, ত্রিশাল দুগ্ধ কারখানা স্থাপনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

‘‘একটি বাড়ি একটি খামার’’

দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প -‘‘একটি বাড়ি একটি খামার’’ প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪টি জেলার ৪৮২টি উপজেলার ১৯২৮টি ইউনিয়নের (প্রতি উপজেলা হতে ৪টি ইউনিয়ন) ৯৬৪০টি গ্রাম (প্রতিটি ইউনিয়ন হতে ৫টি গ্রাম) বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলছে। খানা জরিপের মাধ্যমে ইতোমধ্যে নির্বাচিত ৩৯৭ উপজেলার ১৫৮৮ ইউনিয়নের ৭৯৪০ গ্রামের প্রতি গ্রাম হতে ৬০টি করে পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে এবং গ্রাম সংগঠনকে কার্যকর করার মাধ্যমে নির্বাচিত গ্রামসমূহের উপকারভোগীদের সমন্বয়ে পর্যন্ত মোট ৭৯৪০টি গ্রাম সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাম সংগঠনের মাধ্যমে নির্বাচিত উপকারভোগীদের মাঝে প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষনোত্তর ঋণ সহায়তা সম্পদ বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নবসৃষ্ট ৯৬৪০টি গ্রাম সংগঠনকে সমবায় আইনের আওতায় সমবায় সমিতি হিসেবে নিবন্ধন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদে ,৭৮,৪০০টি পরিবার তথা ২৮,৯২,০০০ মানুষ সরাসরি সম্পদ সহায়তা পাবে। অন্যন্য বৈশিষ্ট্যের প্রকল্পটি দারিদ্র্য বিমোচনে ল্লী উন্নয়নে যুগান্তকারী সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (সিভিডিপি)

এক গ্রাম এক সমিতিঃ

স্মরণাতীত কাল থেকে গ্রাম একটি অখন্ড সত্ত্বা এবং গ্রামাঞ্চলে পেশাগত পরিবর্তন অনেক পেশার বিলুপ্তি সত্ত্বেও সকল মানুষের মধ্যে এখনো রয়েছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক নিবিড় বন্ধন। বন্ধনই হচ্ছে গ্রামের সকলকে নিয়ে উন্নয়নের প্রধান পুঁজি। গ্রামের নিজস্ব সত্ত্বা বজায় রেখে ‘এক গ্রাম এক সমিতিকে কার্যকর করার মাধ্যমে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে সৃষ্টি করা হয়েছে একটি কমন ­াটফরম। এখানে ধনী-গরিব, কৃষক ভূমিহীন, যুবক-যুবতী শিশু-কিশোর নির্বিশেষে সকল নারী পুরুষের অংশ গ্রহণের অবাধ সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি গ্রামের সকল শ্রেণী পেশায় নিয়োজিত এবং সকল বয়সের নারী-পুরুষকে একটি সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির আওতায় এনে স্বচেষ্টায় জনঅংশগ্রহণের ভিত্তিতে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন দারিদ্র্য বিমোচন করাই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। ১ম পর্যায়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের কার্যক্রম ১৯টি জেলার ২১টি উপজেলার ১৫৭৫টি গ্রামে বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের ফলশ্রুতিতে ২য় পর্যায়ে প্রকল্পটি দেশের ৬৪টি জেলার ৬৬টি উপজেলায় ৪২৭৫টি গ্রামে শুরু করা হয়েছে। প্রকল্পের উপাদানসমূহ হলঃ প্রশিক্ষণ উদ্বুদ্ধকরণ, উন্মুক্ত সদস্যপদ, প্রশিক্ষিত গ্রাম উন্নয়ন কর্মী, পুঁজি সংগ্রহ বিনিয়োগ কার্যক্রম, অর্থনৈতিক আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম, সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন, মাসিক যৌথসভা। প্রকল্পের আওতায় ডিসেম্বর,২০১০ পর্যন্ত সমিতি গঠন করা হয়েছে ১৯২৭টি, মাসিক যৌথ ইউনিয়ন সমন্বয় সভা, পুজি গঠন ২৬৫৫.৭৯ লক্ষ টাকা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ৩৯৬৯৬ জন, মাসিক যৌথ ইউনিয়ন সমন্বয় সভা ১৬৭৮২১টি, আত্নকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে ২৩১৬৭জনকে এবং সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪০০.৫০ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

 

চর জীবিকায়ন কর্মসূচি (সিএলপি)

চর এলাকা বিভিন্ন পশ্চাদপদ এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনে নেয়া হয়েছে বিশেষ প্রকল্প। ‘‘চর জীবিকায়ন কর্মসূচি(সিএলপি)’’-শীর্ষক একটি প্রকল্প কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার ২৮টি উপজেলার মোট ১৫০টি ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন আছে। চর এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ লক্ষ উপকারভোগী প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে প্রকল্পের সুবিধা পাচেছ। কর্মসূচির আওতায় ৩১শে মার্চ ২০১০ পর্যন্ত ২৪৯৯৪জন সদস্যের ১২০৪টি দল গঠনের মাধ্যমে ১৬,১৭,০৯৭ জনদিবস প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।  ছাড়া কর্মসূচির আওতায় ১০৬৬৫টি গরু   ২৮২৯৪টি ভিটাবাড়ী উঁচুকরণ, ৬২২০৩ টি ল্যাট্রিন নির্মাণ, ১৪৬৯টি অগভীর নলকূপ খনন, ৩৪৮৪ টি পাকা নলকূপ বসানো, ৩৬৪.৫০ কিলোমিটার কাচাঁরাস্তা নির্মাণ, ১৩টি কালভার্ট নির্মাণ, ১১ টি ইউড্রেন নির্মাণ, ১৫০টি স্কুল মাদ্রাসা সংস্কার, ২৪৩১১টি বসত আঙ্গিনায় বাগান নির্মাণ, ৩৭৯৭৯টি গাছের চারা বিতরণ, ২৫৪২৯টি পরিবারকে উন্নতমাণের বীজ বিতরণ, ১৫৪০৯৩টি গবাদি পশুকে ভেকসিন প্রদান, ২৪৩১১জনকে বসত আঙ্গিনায় বাগান নির্মাণে প্রশিক্ষণ প্রদান, ২৯৪৬১জনকে জৈবসার উৎপাদনে প্রশিক্ষণ প্রদান, ৯৩৭৬টি চিকিৎসা কেন্দ্র চালুসহ ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্মসূচির মাধ্যমে চরের ৮৬১জন বেকার যুব যুবমহিলাদের পোশাক শিল্পে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাকুরির উপযোগী করে তুলেছে। DFID এর অনুদানে সারাবিশ্বে বাস্তবায়নকারী প্রকল্পগুলোর মধ্যে এই প্রকল্পটি সফল বাস্তবায়ন হওয়ায় British Expertise কর্তৃক International Awards 2008-2009 প্রদান করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যায়নে CLP প্রকল্পটি বর্তমানে ১ম অবস্থানে রয়েছে। ‘‘চরজীবিকায়ন কর্মসূচী (সিএলপি)’’ সফল বাস্তবায়নের ফলশ্রুতিতে DFID কর্তৃক বিভাগের মাধ্যমে সিএলপি- বাস্তবায়নের জন্য আরও ৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের সমপরিমাণ অর্থ প্রদানের বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেছে সিএলপি- বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।

 

‘‘ইকনোমিক এমপাওয়ারমেন্ট অফ দি পুওরেস্ট ইন বাংলাদেশ (ইইপি)’’

২০১৫ সালের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশের মোট ১০.০০ লক্ষ হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্যে ল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগ দেশের চর, হাওর, বাওড়, জলাবদ্ধ এলাকা, সমুদ্র উপকূলবর্তী ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা, মঙ্গা এবং কাজের সংস্থান হয় না এমন শুষ্ক মৌসুমের অতি দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশগতভাবে বঞ্চিত পার্বত্যাঞ্চলের আদিবাসীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নকল্পে ডিএফআইডি ৮৮৪.০০ কোটি টাকা (৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড) অনুদান সহায়তাসহ মোট ৮৮৬.৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্রেবুয়ারি/২০০৮ থেকে ডিসেম্বর/২০১৫ মেয়াদে ‘‘ইকনোমিক এমপাওয়ারমেন্ট অফ দি পুওরেস্ট ইন বাংলাদেশ (ইইপি)’’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় ২৩টি এনজিও মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পর্যায়ক্রমে আরও অধিক সংখ্যক এনজিও মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। শহর গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের উন্নয়নে প্রকল্প অবদান রাখছে।  

 

‘‘লিংক মডেল (অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-, পিআরডিপি-)’’

দেশের সর্ববৃহৎ সরকারী এজেন্সি হিসেবে বাংলাদেশ ল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) সত্তর দশকের শুরু হতেই কৃষি প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য নিরসন এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। বিআরডিবি কার্যক্রম বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার ৪৭৬টি উপজেলায় বিস্তৃত। বর্তমানে বিআরডিবি কর্তৃক অধিকতর দারিদ্রপ্রবণ এলাকার জন্য বিশেষ প্রকল্প এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে লাগসই টেকসই উন্নয়নের কাজ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সুশাসন নিশ্চিত কল্পে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে যোগসূত্র স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ল্লী উন্নয়ন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ল্লী জনগণের সম্পৃক্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লিংক মডেল নামে একটি অংশীদায়িত্বমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ জাতিগঠনমূলক বিভিন্ন সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা গ্রামের জনগণের মধ্যে কার্যকর লিংক তথা সংযোগ স্থাপনের মডেল হিসাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজস্ব পরিকল্পনা প্রণয়ন বাস্তবায়ন, বিদ্যমান সরকারি, বেসরকারি সরবরাহ সেবার সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কমিউনিটিভুক্ত সকল শ্রেণী পেশার জনগণের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উন্নয়ন কার্যক্রম সফল বাস্তবায়নের ভিত্তিতে তা সম্প্রসারিত করা হবে। এর ফলে ল্লী এলাকার জনগণের সাথে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন সেবা নিশ্চিত হবে। প্রকল্পটির ১ম পর্যায়ে কালিহাতী (টাংগাইল), তিতাস (কুমিল্লা), মেহেরপুর সদর উপজেলার মোট ১৫টি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন হয়। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের ফলে ২য় পর্যায়ে প্রকল্পটি দেশের ৬৪টি জেলার ৮৫টি উপজেলায় সম্প্রসারিত আকারে গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদকে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ডেলিভারি ষ্টেশন হিসেবে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সরকারি বেসরকারি সেবাসমূহ জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য এই প্রকল্পের ‘‘ইউনিয়ন সমন্বয় কমিটি সভা (ইউসিসিএম)’’ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে।

 

সেচ পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সেচ এলাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় সেচ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পানির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে নিরাপদ সুপেয় পানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। খাদ্য পুষ্টির চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে দেশে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্যে দুগ্ধ উৎপাদক সমবায় সমিতিগুলোর মাধ্যমে উন্নতজাতের সিমেন প্রাপ্তি নিশ্চিত করাসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে গবাদিপশু বিতরণসহ ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬৯৩টি গ্রাম কমিটি (জিসি) স্কিম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ছাড়া ৩১৫৩৩জন-কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

 

ল্লী ফসল ক্লিনিকঃ

অর্জিত সাফল্য অনুযায়ী কৃষকের সংগতি স্থাপনের জন্য একটি স্থানীয় পরার্মশ ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়া প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে সস্প্রতি ল্লী ফসল ক্লিনিক মডেল উদ্ভাবন করেছে যা প্রকৃত পক্ষে একটি স্থানীয় জ্ঞান কেন্দ্র (Local Knowledge Centre) হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

Ø     প্রতিবেদন সময়ে স্থাপিত ৩টি মডেল ফসল ক্লিনিক ২১১০ টি সমস্যা গ্রহণ করে ২০৬৩ টির সমাধান স্থানীয়ভাবে দিতে সক্ষম হয়েছে। সময়ে ২০৫৫ জন কৃষক ক্লিনিকগুলিতে সমস্যাসহ এসেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন কৃষক লিখিত ব্যবস্থাপত্র (prescription) নিয়ে সঠিক পরামর্শ অনুযায়ী ফসলের রোগ-বালাইএর চিকিৎসা করতে পারছেন। লিখিত ব্যবস্থাপত্রের কারণে ভেজাল বালাইনাশক বিক্রির প্রবণতাও ক্লিনিক এলাকায় কমে এসেছে।

Ø     আরডিএ কর্তৃক শতাধিক -রাসায়নিক বালাইনাশক (bio-pesticide) ফর্মুলা তৈরি কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্লিনিকগুলিতে সরবরাহ এবং জনপ্রিয় করনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফসল ক্লিনিক এলাকায় রাসায়নিক বিষ ব্যবহারের প্রবনতা লক্ষ্যণীয়ভাবে কমে আসছে উল্লেখ্য, -রাসায়নিক বালাইনাশকের প্রায় ৭০,০০০ লিফলেট কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, এবং সহজ সাবলীল ভাষায় লেখার কারণে কৃষকরা অনায়াসে সেগুলি ব্যবহার করতে পারছেন।

Ø     তথ্য-প্রযুক্তি যোগাযোগঃ ফসল ক্লিনিক পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফসলের ডাক্তারগণ নিজ উদ্যোগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দূর-দূরান্তের কৃষকবৃন্দকে ফসলের স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়া ফসলের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর গবেষনা কেন্দ্র থেকে মোবাইল ফোনে জেনে নিচ্ছেন।

Ø     বাংলাদেশে সম্প্রচারিত সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ইত্যাদি বিগত এপ্রিল জুন মাসে ধারাবাহিকভাবে দুই পর্বে আরডিএ উদ্ভাবিত ল্লী ফসল ক্লিনিকএর ওপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করে।

Ø     বাংলাদেশ টেলিভিশনের কৃষক প্রিয় অনুষ্ঠান মাটি মানুষ ল্লী ফসল ক্লিনিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রামাণ্য চিত্র একাধিকবার প্রচার করেছে।

Ø     গণমাধ্যমে ফসল ক্লিনিকেরপ্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত যুবক-যুব মহিলাদের একান্ত আগ্রহে বগুড়া, জয়পুরহাট গাইবান্ধা দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে মোট ৮টি ফসল ক্লিনিক কেন্দ্র সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া ল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগী এনজিওর ৯১ জন কর্মীকে ফসলের ডাক্তার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং তারা দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৯১ টি উপজেলায় কৃষকদের ফসলের স্বাস্থ্য-সেবা প্রদান করছেন।

আর্ন্তজাতিক সাফল্য

Ø     আরডিএ উদ্ভাবিত ফসল ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করে নেপালের চিতত্তয়ান জেলায় ১১টি, কাভেরী জেলায় টি, ধাধিং জেলায় ২টি কাঠমান্ডু জেলায় ৫টি মিলিয়ে সর্বমোট ২০ টি ফসল ক্লিনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া শ্রীলংকার উইরা উইলা জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফসল ক্লিনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

Ø     বিগত ১৮-২০ জুন, ২০১০ফসল ক্লিনিক স্থাপন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য পাকিস্তান থেকে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আরডিএ তে অবস্থান করেন। এই প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় অতি সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডিতে একটি এবং আফগানিস্থানে একটি ফসল ক্লিনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

Ø     আরডিএ উদ্ভাবিত ল্লী ফসল ক্লিনিক মডেলটি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক Global Plant Clinic এর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।

Ø     আরডিএ, বগুড়া কর্তৃক প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ৫২টি মডেল প্রর্দশনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

Ø     আরডিএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূ-উপরিস্থ পানি দ্বারা সেচ এলাকা উন্নয়নের মাধ্যমে ল্লী জীবিকায়ন উন্নয়ন শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ৬০০০ সুফলযোগী পরিবারকে সুপেয় পানি ব্যাবহারের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

Ø      প্রকল্পের আওতায় ১৫টি উপপ্রকল্পে ১২০০ একর জমি সেচ কাজের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

Ø     প্রকল্পের আওতায় ৩৩৮৮জনকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত করা হয়েছে।

Ø     আরডিএ ক্রেডিটের আওতায় ৩১২৮জনের মধ্যে ৫৩০.০০ লক্ষ টাকা ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আত্নকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

সমবায় মৃৎশিল্পের উন্নয়নঃ

 আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি দারিদ্র্য হ্রাসকল্পে সমবায়ীদেরকে বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকান্ডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। দেশের হারানো মৃৎশিল্পকে পুনরুদ্ধার, মৃৎশিল্পীদের দক্ষতা উন্নয়ন উন্নত উৎপাদন কৌশল এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ‘‘বাংলাদেশ সমবায় মৃৎশিল্পের উন্নয়ন’’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উন্নতমানের পটারিসামগ্রী নির্মাণের জন্য একটি চুলী স্থাপিত হয়েছে। চুলী থেকে উৎপাদিত মৃৎশিল্প গুণগত উৎকর্ষের স্বাক্ষর রেখেছে। প্রকল্পটি গত ৩০শে জুন,২০১০ তারিখে সমাপ্ত হয়েছে।

                       

গারো সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার উন্নয়নঃ

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সমবায় অধিদপ্তর দেশের ২য় বৃহত্তম উপজাতীয় জনগোষ্ঠী তথা গারো সম্প্রদায়ের জন্য ‘‘গারো সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার উন্নয়ন’’ শীর্ষক একটি প্রকল্প ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ধোবাউড়া উপজেলা, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা, নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা দূর্গাপুর উপজেলা এবং শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় গারো সম্প্রদায়ের ২৪০০ টি পরিবারকে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচেছ। সমবায়ের মাধ্যমে সংগঠিত করে তাদের জন্য উপযুক্ত সামাজিক আর্থিক কর্মকান্ড বিষয়ে সমবায় বিভাগসহ অন্যান্য জাতিগঠনমূলক বিভাগ এর সহায়তায় আনুষ্ঠানিক/অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। সুবিধাভোগীগণ যাতে জড়তামুক্ত পরিবেশে স্বচ্ছন্দে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে সে লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে তাদের Secured and comfortable zone  প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংগঠিত সংসদ্যগণকে জরিপ প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ততা চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত আয়বর্ধক কর্মকান্ড (যেমন গরু, ছাগল, শুকর পালন, মৎস্য কৃষি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য পরিবার প্রতি ২০,০০০/- টাকা মূল্যমানের সম্পদ হস্থান্তর করা হয়েছে।

 

ডিজিটাল বাংলাদেশঃ

২০১০ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়টি বার্ডের প্রায়োগিক গবেষণাতেও গুরুত্ব সহকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জুলাই ২০০৯ থেকে বার্ড ‘‘ল্লী এলাকায় উন্নত সেবা সরবরাহে -পরিষদ’’ শীর্ষক একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। ইউনিয়ন পরিষদকে কেন্দ্র করে আইসিটি     প্লাটফর্ম সৃষ্টির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত সেবা সরবরাহ করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব জোড়কানন ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বার্ড ১টি পৃথক আইটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে রয়েছে ৪০টি কম্পিউটার ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি কম্পিউটার ল্যাব এবং কনফারেন্স সিস্টেমসহ ১টি সম্মেলন কক্ষ। বুনিয়াদী প্রশিক্ষণের কম্পিউটার মডিউল বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারে উক্ত ল্যাব নিয়মিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবাসমূহ অনলাইনে পাবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে; যেমন- নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু এবং প্রার্থীদের রোল নম্বর, সিট এ্যারেনজমেন্ট ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়েছে। সিটিজেন চার্টার অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য সদরদপ্তরে একটি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। উক্ত ল্যাবে বিআরডিবি জন কর্মকর্তা এবং ১৮ জন কম্পিউটার অপারেটরের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। চতুর্থ ব্যাচের প্রশিক্ষণ অব্যাহত আছে। সরকারি নমুনা মোতাবেক বার্ডের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করা হয়েছে (www.brdb.gov.bd)  দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং সংরক্ষণে ইলেকট্রনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন, এমআইএস ছকে ৬টি জেলা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য -মেইল এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক কম্পিউটার ডেটাবেইজের মাধ্যমে বাজার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি উপজেলায়ডাটা সেন্টারস্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসায় ইত্যাদি ক্ষেত্রে গ্রামীণ জনগণের তথ্য অন্যান্য সেবায় প্রবেশাধিকার বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

নারী উন্নয়নঃ

§  নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে বার্ড শুরু থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। আলোচ্য সময়ে বার্ডের তিনটি প্রকল্প যথা- মহিলা শিক্ষা্, আয় পুষ্টি উন্নয়ন (WEINI) প্রকল্প, জেন্ডার রাইটস অপারেশন এ্যান্ড ভায়োলেন্স এলিমিনেশন (GROVE) প্রকল্প এবং স্থানীয় উন্নয়নে জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি (CBPO) প্রকল্প গ্রাম পর্যায়ে নারী উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সকল কার্যক্রমের ফলে গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ; কর্মসংস্থান; শিক্ষা, স্বাস্থ্য পুষ্টি উন্নয়ন; নেতৃত্ব উন্নয়ন; নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা নারীদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

§  ৬০,৯৫৫ জন নারীকে উন্নয়নে নেতৃত্ব ক্ষমতায়ন, বিকাশ সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

 

কৃষি বীমাঃ

বাংলাদেশ ল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় পিরোজপুর, ঝালকাঠি, রংপুর পাবনা জেলায় ৮টি উপজেলার ২০০টি গ্রাম সমিতির কৃষকদের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জুলাই ২০০৯ থেকে জুন ২০১১ সময়ের জন্য কৃষি বীমা সংক্রান্ত একটি প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ এলাকার কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর কৃষি বীমা মডেল তৈরি করা।

 

Korea International Cooperation Agency  বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় বার্ড কর্তৃক পরিচালিত ’’কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার সমন্বিত গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পটি’’ জুলাই ২০০৮ থেকে জুন ২০১১ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হচেছ। প্রকল্প এলাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে (পুরুষ মহিলা) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে সক্ষম করে তোলা এবং ভৌত অবকাঠামো যথা১০ কিলোমিটার ল্লী সড়ক, ১২টি কালভার্ট, ৭টি কমিউনিটি সেন্টার, ২টি বিদ্যালয়, ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশার জন্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ৬০টি ইকোটয়লেট নির্মাণ কাজ চলছে বাংলাদেশ ল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড), কুমিল্লা কর্তৃক সফলভাবে দেশের ১১টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত ‘‘ক্ষুদ্র ভূমিহীন শ্রমিক উন্নয়ন কর্মসূচি’’ শীর্ষক প্রকল্পকে এর মেয়াদ সমাপ্তিতে বিদ্যমান সম্পদ দায়দেনাসহ (Assets and Liabilities) ১৯৯৪ সালের কোম্পানি অ্যাক্টের বিধানমতে ‘‘ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’’ নামে একটি লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত করা হয়। ফাউন্ডেশনটি ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সেবা সহায়তামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ফাউন্ডেশনের আওতায় কেন্দ্রভুক্ত সদস্য সদস্যগণকে ফাউন্ডেশনের আবর্তক ঋণ তহবিল হতে তাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আত্ন-কর্মসংস্থান আয় বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমে ১ম দফায় ,০০০.০০ - ১০,০০০,০০ টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি দফায় ,০০০.০০ টাকা করে বর্ধিত জামানত বিহীন ঋণ প্রদান করা হয়। ফাউন্ডেশনের আওতায় গত বছরে (নভেম্বর, ২০১০ পর্যন্ত) ২৩৩০৭জনের মধ্যে ৩০৪৬.৩৬ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

 

ল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রশিক্ষণ, গবেষণা প্রায়াগিক গবেষণা এই তিন ধরনের কাজের মাধ্যমে লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন, স্বল্প ব্যয়ে কৃষিখাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে আরডিএ উলে­খযোগ্য অবদান রেখে চলছে। সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রে নিরসন অভিযোজনমূলক বিভিন্ন ধরণের গবেষণা প্রশিক্ষণ আরডিএ বাস্তবায়ন করছে। এক্ষেত্রে খরাপ্রবণ উত্তরাঞ্চল লবণাক্ততাপ্রবণ দক্ষিণাঞ্চলকে গবেষণা এলাকা হিসাবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন ল্লী উন্নয়নের মডেল উদ্ভাবনের লক্ষ্যে একাডেমী সার্বিক গ্রাম উনণয়ন কর্মসূচি, সেচ পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান, ল্লী কর্মসমূহে নিয়োজিত শ্রমের প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প, দক্ষিণ পার্বত্যাঞ্চলে আরডিএ উদ্ভাবিত সেচ পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে সেচ এলাকা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প, আরডিএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূ-উপরিস্থ পানি দ্বারা সেচ এলাকা উন্নয়নের মাধ্যমে ল্লী জীবিকায়ন উন্নয়ন শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প, আরডিএ উদ্ভাবিত গভীর নলকূপ এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি হস্তান্তর, মঙ্গার আশাযুক্ত কবলিত এলাকায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাস প্রযুক্তির উন্নয়ন জৈব্য সার উৎপাদন, গুড সিড ইনিশিয়াটিভ (জিএসআই), বীজ সম্প্রসারণে মহিলা শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পানি সাশ্রয়ী ধান প্রযুক্তি উন্নয়ন বিস্তরণ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে দেশের ৫৩ টি জেলায় ২০৩ টি স্থানে স্বল্প ব্যয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন, পানির বহুমুখী ব্যবহার, আয়রন আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ সংক্রান্ত আরডিএ উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

 

সৌর বিদ্যুৎ ল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন কার্যক্রমঃ

ল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগ কর্তৃক কানাডিয়ান সিডার আর্থিক সহায়তায় ‘‘ল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-১২’’ শীর্ষক প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন শেষে ১৯৯৯ সালে জাতীয় সংসদে গৃহীত আইনের মাধ্যমে ল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) প্রতিষ্ঠা করা হয় যার কার্যক্রম তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বিগত জুলাই, ২০০০ সালে  উদ্বোধন করা হয়। পিডিবিএফ ল্লী অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী সংগঠিত করে কার্যকর ঋণদান কর্মসূচি, নেতৃতব বিকাশ সামাজিক উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং নারীর ক্ষমতায়নে উলে­খযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।  দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে অনগ্রসর দরিদ্রপ্রবণ এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোর নিমিত্ত ‘‘সকলের জন্য বিদ্যুৎ’’ এই শেস্নাগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পিডিবিএফ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম চালু করেছে। সোলার হোম সিস্টেম প্রতিস্থাপন করে দৈনিক গড়ে ২৩৫ (KW) বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে পিডিপিএফ জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ পাচেছ। সৌরশক্তি উৎপাদন এর ব্যবহারকে জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে বার্ড-ক্যাম্পাসে প্রদর্শনীমূলক সৌরশক্তি উৎপাদন প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করা হয়েছে। 

 

প্রশিক্ষণঃ

ল্লী উন্নয়ন দারিদ্র্য বিমোচনে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারসমূহকে প্রাধান্য দিয়ে বার্ড আলোচ্য সময়ে প্রায় ৫৭০০ জনকে প্রশিক্ষিত করেছে। সময়ে বার্ড আফ্রো এশিয়ান রুরাল ডেভেলপমেন্ট অর্গনাইজেশন (AARDO) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে Micro-Credit Delivery System and Good Governance in Rural Development এবং কমনওয়েল্থ সচিবালয়ের (COMSEC) অর্থায়নে Managing Change in Local Governance and Rural Development শীর্ষক দুটো    আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। উলে­­খ্যAARDO এবং কমনওয়েল্থ সচিবালয়ের উদ্যোগে আরও দুটো কোর্স চলতি অর্থ বছরে আয়োজনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এভাবে বার্ড জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। সুনামগঞ্জ কম্যুনিটি বেইসড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (SCBRMP)- উন্নয়ন কর্মীদের জন্য অনেকগুলো প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করে যা পশ্চাদপদ এলাকা হিসেবে বিবেচিত এলাকাসমূহেও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রেখেছে।

 

বার্ডের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানগণের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স।  ইতোমধ্যে ১টি কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বার্ড মোট ৪৮০ জন ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রশিক্ষিত করবে যা উপজেলা পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।

 

ল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া, ৩টি প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় মোট ১৮৩৩ জন সুফলভোগীকে বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ডের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এর মধ্যে ৮২৫ (৪৫%) জন মহিলা এবং ১০০৮ (৫৫%) জন পুরুষ।

 

গত জানুয়ারি, ২০০৯ থেকে আগষ্ট, ২০১০ পর্যন্ত  মোট ২০ মাসে ল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া, বিভিন্ন বিষয়ে মোট ২৪৫ টি  প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে। উলেস্ন­খিত কোর্সগুলোতে মোট ১০,৮৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেছেন যাদের মধ্যে শতকরা ৬৮ জন পুরুষ এবং ৩২ জন মহিলা প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। দেশের শিক্ষিত বেকার যুবক মহিলা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং সরকারের বিভিন্ন জাতিগঠনমূলক বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ এই সকল প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।

 

প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়নঃ

বাংলাদেশে সমবায় আন্দোলনকে গতিশীল করার জন্য সমবায়ীদের সমবায় বিষয়ক শিক্ষা প্রদান এবং সমবায় বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্দ্যোশে ১০টি আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং ১টি বাংলাদেশ সমবায় একাডেমী রয়েছে। সকল সমবায় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সমূহের মাধ্যমে বর্তমান মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে  ৩৪০টি কোর্সের মাধ্যমে ৬৭৪৫ জন সমবায়ী এবং ৩১৭১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ ইউনিটের মাধ্যমে ৩২৯০৯৩ জন সমবায়ীকে উদ্ধুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

 

সমবায় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো এনটিসিভূক্তকরণঃ

সমবায় অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সমূহের মান উন্নয়ন, সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তি এবং প্রদত্ত সনদপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ন্যাশনাল ট্রেনিং কাউন্সিল (এনটিসি) এর অন্তর্ভূক্তকরণের উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে। লক্ষ্যে গঠিত একটি কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।

 

নরসিংদী আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ কাজ সমাপ্তকরণঃ

নরসিংদী জেলায় একটি নতুন আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৭টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্যান্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে কম্পিউটার পরিচালনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হবে। যার ফলে বর্তমান সরকার ঘোষিত আইসিটি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে উলে­­খযোগ্য অবদান রাখতে সম্ভব হবে।

 

বরিশাল সিলেট বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের সেট-আপ অনুমোদনঃ

গত ১৮ ফেব্রূয়ারি ২০১০ তারিখে বরিশাল সিলেট বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের সেট-আপ অনুমোদনসহ পদ সৃজন আদেশ জারি করা হয়েছে। বরিশাল সিলেট বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এখানে আরো উলে­­খ্য যে, রংপুর বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি বর্তমানে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে।

 

গবেষণাঃ

§  বার্ডের Eco-Sanitation বিষয়ক গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতেএকটি বাড়ি একটি খামার কর্মসূচীতে ইকো-টয়লেট প্রযুক্তি গ্রাম পর্যায়ে সম্প্রসারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে;

§  প্রকল্প মূল্যায়ন বিষয়ক গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে বার্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘‘স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প’’ (CBPO) সম্প্রসারণের ব্যাপারে সোনালী ব্যাংকের সাথে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

§   ছাড়াও বার্ডের ইকো সেনিটেশন ‘‘সার্ভিস ডেলিভারি এ্যান্ড গুড গভার্নেন্স’’ বিষয়ক গবেষণাসহ কতিপয় গবেষণার ফলাফল গণমাধ্যম গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে। সকল কার্যক্রম আরডিসিডি অন্যতম কৌশলগত উদ্দেশ্য ‘‘গবেষণা প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে ল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, সমাধান ফলাফল সম্প্রসারণ’’ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

 

প্রায়োগিক গবেষণাঃ

§  সাম্প্রতিক সময়ে বার্ডের ইকোটয়লেট মডেল বিপুলভাবে প্রশংশিত হয়েছে। জৈব সারের উৎপাদন ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি পরিবেশ উন্নয়নের মডেল হিসাবে ইকোটয়লেট প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য একটি বাড়ী একটি খামার কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কর্মসূচীর আওতায় প্রতি ইউনিয়নে ৪টি করে মোট ৯৬৪০টি মডেল ইকো-টয়লেট স্থাপনের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। উলে­­খ্য, ইতোমধ্যে প্রতি ইউনিয়নে একটি করে প্রদর্শনী ইকো-টয়লেট স্থাপনের সরকারী সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এলজিইডি প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ ইকো-টয়লেট নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছে। প্রযুক্তি সিরডাপভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রসমূহে সম্প্রসারণের ব্যাপারে সিরডাপ আগ্রহ ব্যক্ত করেছে।

§  বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহারে পরিবেশ উন্নয়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে এবং সৌরশক্তিসহ জ্বালানীর প্রতিটি উৎসের ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গৃহস্থালি বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এর মাধ্যমে কম্পোষ্ট তৈরি করে কৃষিতে প্রয়োগের লক্ষ্য বার্ড সময়ে নিজস্ব অর্থায়নে Waste Resource Recycle and Management-শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস ্লান্ট স্থাপনেরও আরডিএ একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। 

§  কোইকার আর্থিক সহায়তায় বার্ড ‘‘বুড়িচং উপজেলার সমন্বিত গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প’’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য হচ্ছে ভৌত অবকাঠামো তথা স্কুল, কালভার্ট, রাস্তা কম্যুনিটি সেন্টার নির্মাণ, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠির দারিদ্র্য বিমোচন করা। গত ২৭ সেপ্টেম্বরর ২০১০ স্থানীয় সরকার, ল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহাঙ্গীর কবীর নানক এবং বাংলাদেশে কোরিয়ার মাননীয় রাষ্ট্রদূত তিয়াং চো বুড়িচং উপজেলায় প্রকল্পের নির্মাণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। আশা করা যায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে প্রকল্প এলাকায় কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেনিটেশন অবস্থার উন্নয়নের ফলে দারিদ্র্য বিমোচন ল্লী উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান হবে।

 

রূপকল্প ২০২১- অন্তর্ভুক্ত অগ্রাধিকারসমূহের আলোকে প্রণীত হয়েছে এবং সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন আছে।

 

·     Rural Life Plan for Secured Old Age

·     E-Parishad for Better Service Delivery in Rural Areas

·     Application of Renewable Solar Evergy in Shallaw Tublewell Irrigation Management

·     Water and Guti Urea Uses in Rice for Incresed Production and Additional Employment.

 

ল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া বাংলাদেশের ল্লী উন্নয়নে সেচ পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে  (CIWM) অবকাঠামো উন্নয়নে ৩টি প্রায়োগিক গবেষণার আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৬টি জেলায় সর্বমোট ১৬ টি প্রকল্পে গভীর নলকূপ, ওভারহেড ট্যাংক, গৃহস্থালী কাজে খাবার পানি সরবরাহ, ভূ-গর্ভস্থ সেচনালাসহ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আয়রন আর্সেনিক ফিল্ট্রেশন প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

 

পানি সম্পদ প্রযুক্তি হস্তান্তরঃ প্রায়োগিক গবেষণা থেকে উদ্ভাবিত সেচ পানি সম্পদ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ২৩০টি জিও/এনজিও/প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারিত হয়েছে। অতিসম্প্রতি কর্ণফুলী ইপিজেড, চট্টগ্রামে দেশের সর্ববৃহৎ দৈনিক ২০ লক্ষ গ্যালন/প্রতিদিন কর্ণফুলী নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ করা হয়েছে এবং চামড়া শিল্প নগরী, সভার, ঢাকায় ২২. লক্ষ গ্যালন/প্রতিদিন নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

কর্মসংস্থান সুবিধাভোগীঃ  একাডেমীর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত সেচ পানি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৭৭৯৪ জন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং প্রায় ১২৭৯৪ লোক প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছে।

 

সিরডাপঃ

বিশ্বায়নের প্রেক্ষিতে সিরডাপের ভূমিকা পুনঃনির্ধারণ, সিরডাপের সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের অধিকতর যোগাযোগ স্থাপন, সিরডাপভুক্ত সদস্য দেশসমূহের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক সৃষ্টি এবং আন্তঃসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংস্থার সাথে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৪-২৮ জানুয়ারি ২০১০ মাসে Second Ministerial Meeting on Rural Development in Asia and the Pacific Region শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিরডাপভুক্ত ১৪টি দেশ এতে অংশগ্রহণ করে। সিরডাপ সদস্যভূক্ত ১৪টি দেশের মন্ত্রী সচিব পর্যায়ের প্রতিনিধি সমন্বয়ে সাফল্যজনকভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনটি উদ্ধোধন করেন। মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহাঙ্গীর কবির নানক উক্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।  উক্ত সম্মেলনে সদস্যভূক্ত দেশগুলো ২০১৫ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হত দারিদ্রে্যর মাত্রা অর্ধেকে নামিয়ে আনার বিষয়ে মত্যৈক্য পৌছে।

 

উপসংহারঃ

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে জাতির কাছে যে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছিল, যা দিন বদলের সনদ হিসেবে সুপরিচিত, সেই ইস্তেহারের মধ্যে যে বিষয়গুলো ল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগের কাজের সাথে সংশি­ষ্ট যেসব কর্মসূচি     বাস্তাবায়নে বিভাগ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে বিভাগে ১২টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সবুজ পাতাভুক্ত ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে ৩টি প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে এবং অন্যান্যগুলো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পলস্নী উন্নয়ন সমবায় বিভাগ গৃহীত গৃহীতব্য প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ সম্পন্ন হলে বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়েই দেশের ল্লী আলের প্রায় কোটি দরিদ্র মানুষ তাদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারবে যা দেশের দারিদ্র্য বিমোচন পলস্নী উন্নয়ন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

Contact Info

Secretary
RDDC
Dhaka-1000
Telephone:  8802-9512232
Fax: 8802-9514277
E-mail:   This e-mail address is being protected from spam bots, you need JavaScript enabled to view it

Writ Prition

Login
btn_web_mail.gif